নোবেল পুরস্কার ২০২৫ আব্দুল্লাহ আল হাদী।যত সহজে জানা যায় এবং যত সহজ ভাষায় প্রকাশ করা যায়।

কীভাবে নতুন ও উন্নত পণ্যের আগমনে পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যর্থ হয়। এটিই অর্থনীতিতে ‘সৃজনশীল বিনাশ’ (Creative Destruction) নামে পরিচিত—a vital mechanism for progress. তারা ‘সৃজনশীল বিনাশ’ তত্ত্বের মাধ্যমে দেখিয়েছেন—নতুন উদ্ভাবন যখন বাজারে আসে, তখন পুরোনো পণ্য ও প্রযুক্তি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়, এবং এর মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে একটি টেকসই প্রবৃদ্ধির পথ। ১৯৯২ সালের একটি গাণিতিক মডেলে আগিয়োঁ ও হাউইট এভাবে বিশ্লেষণ করেন।

জোয়েল মোকির –তিনি দেখিয়েছেন—প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কীভাবে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করে এবং তা ইতিহাসের কোন পর্যায়ে নিয়মিত হতে শুরু করে।

উদ্ভাবন–নির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং তার টেকসই কাঠামো ব্যাখ্যার জন্য তাদের এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

১। জোয়েল মোকির (Joel Mokyr) আমেরিকা ২। ফিলিপ আগিয়োঁ (Philippe Aghion) যুক্তরাজ্য ৩। পিটার হাউইট (Peter Howitt) আমেরিকা


মেটাল–অরগানিক ফ্রেমওয়ার্ক – ধাতব জৈব কাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত [“for the development of metal–organic frameworks”] গবেষণায় এমন অণু জাতীয় কাঠামো তৈরি করেছেন, যার মধ্যে বড় শূন্যস্থান আছে। এর মধ্য দিয়ে গ্যাস বা রাসায়নিক পদার্থ প্রবাহিত হতে পারে।

এই কাঠামো মেটাল–অরগানিক ফ্রেমওয়ার্ক নামে পরিচিত। এর মাধ্যমে মরুভূমির বাতাস থেকে পানি সংগ্রহ, কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ, বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণ বা রাসায়নিক বিক্রিয়া ত্বরান্বিত করা যায়।
১। সুসুমু কিটাগাওয়া (জাপান) Susumu Kitagawa ২। রিচার্ড রবসন (অস্ট্রেলিয়া) Richard Robson ৩। ওমার এম ইয়াঘি (জর্ডান) Omar M. Yagh

বৃহদাকার ‘কণাসদৃশ’ যা কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম মেকানিক্যাল টানেলিং এবং ইলেকট্রিক সার্কিটে এনার্জি কোয়ান্টাইজেশন।
তারা এমন একটি অতিপরিবাহী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা তৈরি করেন, যা একটি অবস্থা থেকে সরাসরি অন্য অবস্থায় ‘টানেল‘ করে যেতে পারে। বিষয়টি দেখে মনে হয় যেন একটি জিনিস দেওয়ালের মধ্যে দিয়ে ভেদ করে চলে গেছে।

তারা আরও দেখিয়েছেন যে এই ব্যবস্থাটি নির্দিষ্ট মাত্রার বা সুনির্দিষ্ট ‘ডোজ’-এ শক্তি শোষণ করে এবং বিকিরণ করে। যা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।

তারা অতিপরিবাহী পদার্থ (সুপারকণ্ডাক্টরস) দিয়ে তৈরি একটি ইলেকট্রনিক সার্কিট ব্যবহার করেন—যে উপাদানগুলো কোনো বৈদ্যুতিক প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে।
এই সার্কিটে অতিপরিবাহী অংশগুলোকে একটি পাতলা অপরিবাহী স্তর দ্বারা আলাদা করা হয়েছিল, যা ‘জোসেফসন জাংশন’ নামে পরিচিত। সার্কিটটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিখুঁতভাবে পরিমাপ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারা দেখতে পান, এর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত কারেন্টে নানা অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে। সার্কিটজুড়ে প্রবাহিত চার্জযুক্ত কণাগুলো যেন একত্রে মিলে একটিমাত্র কণার মতো আচরণ করছিল, যা পুরো সার্কিটজুড়ে বিদ্যমান।
এই বৃহদাকার ‘কণাসদৃশ’ ব্যবস্থা শুরুতে এমন এক অবস্থায় থাকে যেখানে কারেন্ট প্রবাহিত হলেও কোনো ভোল্টেজ সৃষ্টি হয় না। সিস্টেমটি সেই অবস্থায় আটকে থাকে, যেন কোনো বাধার পেছনে আটকা পড়েছে।
কিন্তু পরীক্ষায় দেখা যায়—এই সিস্টেমটি তার কোয়ান্টাম স্বভাব প্রদর্শন করে ‘টানেলিং’-এর মাধ্যমে শূন্য ভোল্টেজ অবস্থার সেই বাধা অতিক্রম করে বেরিয়ে আসে। সেই অবস্থার পরিবর্তন শনাক্ত করা হয় ভোল্টেজের উদ্ভবের মাধ্যমে।
১। জন ক্লার্ক (John Clarke) যুক্তরাজ্য ২।মিশেল দেভরেট (Michel H. Devoret) ফ্রান্স ৩। জন এম মার্টিনিস (John M. Martinis) আমেরিকা
এ ছাড়া বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে এই সিস্টেমটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স অনুযায়ী আচরণ করে—অর্থাৎ এটিকোয়ান্টাইজড, যার মানে হলো এটি কেবল নির্দিষ্ট পরিমাণ শক্তি শোষণ বা নিঃসরণ করতে পারে।

পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
মানবদেহের শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম) নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, না হলে এটি শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর আক্রমণ করতে পারে। এই তিন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার দেখায়, কীভাবে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যেন এটি শরীরের নিজস্ব কোষ বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করতে না পারে।
প্রতিদিন রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা মানবদেহকে হাজার হাজার ভিন্ন ধরনের জীবাণু থেকে রক্ষা করে। এই জীবাণুগুলো বিভিন্ন আকারের হয়ে থাকে। অনেক জীবাণুর এমন বৈশিষ্ট্য থাকে, যা মানব কোষের সঙ্গে মিলে যায়। এতে জীবাণু শরীরে লুকিয়ে থাকতে পারে। তাহলে প্রশ্ন হলো— রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা কীভাবে ঠিক করে, কোনটিকে আক্রমণ করতে হবে এবং কোনটিকে রক্ষা করতে হবে?
এই তিন বিজ্ঞানী এমন গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেছেন, যা দেখায় কীভাবে দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত থাকে। তারাএমন কোষ খুঁজে বের করেছেন, যাকে ‘রেগুলেটরি টি সেল‘ বলা হয়, যা দেহের নিজস্ব কোষে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আক্রমণ রোধ করে।

এটি রোগ–প্রতিরোধ বা ইমিউন সিস্টেমের একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শরীরের নিজস্ব উপাদান (self-antigens) এবং ক্ষতিকারক নয় এমন বহিরাগত উপাদান (যেমন: কিছু খাদ্য উপাদান, উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া) এর বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিতবা অতিরিক্ত প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া (immune response) সৃষ্টি হওয়া রোধ করা হয়।
১। ম্যারি ই. ব্রুনকো (Mary E. Brunkow) (মার্কিন) ২। ফ্রেড রামসডেল (Fred Ramsdell) (মার্কিন) ৩। শিমন সাকাগুচি (Shimon Sakaguchi) (জাপান)

নোবেল একাডেমি ৭১ বছর বয়সী এই ব্যক্তির “আকর্ষণীয় এবং দূরদর্শী কর্ম যা, মহাবিশ্বের সন্ত্রাসের মাঝেও, শিল্পের শক্তিকে পুনরায় নিশ্চিত করে“, তার উদ্ধৃতি দিয়েছে।
ক্রাসনাহোরকাই প্রচণ্ড দুর্ভোগে মোড়ানো একটি রাষ্ট্র বা সমাজের কথা বলেছেন। তিনি প্রথমে মনে করতেন এই সমস্যাগুলো তাঁর নিজের, পরে দেখলেন তা পুরো সমাজের চিত্র, পরে দেখলেন তা পুরো রাষ্ট্রের চিন্তা, এবং তিনি পরে আরো ভেবে দেখলেন তা পুরো পৃথিবীর চিন্তা।
তাঁর উপন্যাস “সাতানটাঙ্গো” এবং “দ্য মেলানকোলি অফ রেজিস্ট্যান্স” সহ বেশ কয়েকটি রচনা ফিচার ফিল্মে রূপান্তরিত হয়েছে। যার মধ্যে সাতানটাঙ্গো উপন্যাসের সিনেমার ব্যাল্প্তিকাল সাত ঘন্টা ঊনিশ মিনিট।
প্রায়শই উত্তর–আধুনিক হিসেবে বর্ণনা করা হয় তাঁকে, ক্রাসনাহোরকাই তাঁর দীর্ঘ, প্রান্তবিহীন প্রান্তিক জটিল বাক্যের জন্য অতি পরিচিত। ১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরির গিউলায় জন্মগ্রহণকারী ক্রাস্নাহোরকাই প্রথম তাঁর সাহিত্য ছাপ ফেলেন ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম উপন্যাস সাতানটাঙ্গো দিয়ে, যা ছিল একটি ভেঙে পড়া গ্রামীণ সম্প্রদায়ের মনোমুগ্ধকর চিত্রায়ন।

সাতানটাঙ্গো তাঁর এই উপন্যাসে ১২টি অধ্যায়ের প্রতিটিতে একটি করে অনুচ্ছেদ রয়েছে। যার দ্বিতীয অনুচ্ছেদের নাম ‘দ্য ডেথ অফ গড’।

এই একই শিরোনাম যা ইতঃপূর্বেও আলোচিত হয়েছে ফ্রেডরিখ নিৎসের লেখাতে এবং তারও পূর্বে একই শিরোনাম যা আলোচনা করেছেন ফিওদোর দস্তয়েভ্স্কি।

এবং এমন অনেক কারণে বা এক ধরণের তীব্রতার জন্য যা সমালোচকরা তাঁকে গোগোল, মেলভিল এবং কাফকার সাথেও তুলনা করেছেন।

লাসলো ক্রাসনাহোরকাই ডিস্টোপিয়ান, বিশেষত বিষণ্ণ উপন্যাসের জন্য পরিচিত।
শান্তিতে এবারের নোবেল পুরস্কার লাভ পেয়েছেন ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রে উত্তরণের সংগ্রামের জন্য ভেনেজুয়েলার মানবাধিকারকর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদো।

আবদুল্লাহ আল হাদী, কবি ও সাহিত্যিক, সভাপতি ৩১তম বিসিএস ক্যাডার এসোসিয়েশন।
https://31stbcs.org/laszlo-krasznahorkai-abdullah-al-hadi/
https://youtu.be/IEUL7O2_pc0?si=6yNa2otwhPoT8tNY